মন্ত্রকূট
সিদ্ধ মন্ত্র সংকলন
লেখক
জ্যোতিষ দেবজ্ঞ ও মাতৃসাধক অমিতশ্রী
DIGDARSHAN PUBLICATION
KOLKATA - 700008
📜 ভূমিকা
🙏 ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ।
সুধী পাঠক পাঠিকাগণ, আপনাদের হাতে তুলে দিলাম এই "মন্ত্রকূট" গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে প্রাচীন তান্ত্রিক শাস্ত্র, পুরাণ, আগম ও নিগম থেকে সংগৃহীত অত্যন্ত গোপনীয় ও সিদ্ধ মন্ত্রাবলী।
মন্ত্র হলো দেবশক্তির ধ্বনি-রূপ। সঠিক উচ্চারণ, বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সাথে এই মন্ত্রগুলি জপ করলে অবশ্যই ফললাভ হয়। তবে মনে রাখবেন, মন্ত্র সাধনা করতে হলে শুদ্ধ আচার, সাত্ত্বিক জীবনযাপন ও গুরুকৃপা অত্যাবশ্যক।
⚠️ সতর্কতা:
এই মন্ত্রগুলি শুধুমাত্র শুভ কার্যে প্রয়োগ করুন। কারো অনিষ্ট সাধনে এই বিদ্যা প্রয়োগ করলে সাধকের নিজেরই ক্ষতি হয়। সকল মন্ত্র সাধনা গুরুর নির্দেশে করাই শ্রেয়।
এই গ্রন্থে বশীকরণ, মোহন, আকর্ষণ, ধনলাভ, শত্রুনাশ, রোগমুক্তি, গ্রহশান্তি সহ বিভিন্ন কার্যসিদ্ধির মন্ত্র সংকলিত হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রের সাথে প্রয়োগ বিধি দেওয়া হয়েছে।
॥ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ ॥
অধ্যায় ১: বশীকরণ মন্ত্র
বশীকরণ অর্থ কাউকে নিজের অধীনে আনা। এই মন্ত্রগুলি সিদ্ধ করে প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি বশীভূত হয়।
১) কামে বিভোর করার মন্ত্র
"ওঁম কাম দেবায় নেত্র দর্শনায় উত্তাং কুরু কুরু স্বাহা।"
📌 বিধি: এই মন্ত্র প্রতিদিন ১০০৮ বার জপ করুন যতদিন না আপনার কাজ সফল হয়।
২) স্বয়ংসিদ্ধ বশীকরণ মন্ত্রাবলী
ক) 'ওহম নমো হ্রীং, ক্রীং ক্লীং ক্রীং অমুকং বশ্য কারনায় কালেশ্বরীয় স্বাহা।'
খ) রং সর্ব্বলকবশমানয় স্বাহা হুং।
গ) 'ওঁ নমো নমঃ বিশানী রূপ ত্রিশূলে খড়্গহস্তে সিংহারুরে অমুকং মে বশমাগচ্ছ বশমাগচ্ছ কুরু কুরু স্বাহা।'
ঘ) ওঁ নমঃ কামায় সর্ব্বজনপ্রিয়ায় সর্ব্বজনসন্মোহনায় জ্বল জ্বল প্রজ্বালয় প্রজ্বালয় সর্ব্বজনস্য হৃদয়ং মম বশং কুরু কুরু স্বাহা।
ঙ) ওঁ নমঃ ভগবতে মোহিনী ক্লীম ক্লীম বসম্ স্বাহা।
৩) তৎক্ষণাৎ মোহগ্রস্থ করার মন্ত্র
"ওহম বশ্যমুখি রাজমুখি স্বাহা।"
📌 বিধি: মুখের দিকে তাকিয়ে শুধুমাত্র ৩বার পাঠ করলেই কার্যসিদ্ধি। আগে ১০০৮ বার জপে সিদ্ধ করে নিতে হবে।
৪) নিয়ন্ত্রণ মন্ত্র
ওঁ পরীপ্রিয়মদেবী নমঃ।
📌 বিধি: এই মন্ত্রটা প্রথমে ১০০৮ বার জপ করে নিতে হবে। তারপর যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তার মুখের দিকে তাকিয়ে অথবা তাকে মনে মনে কল্পনা করে ২১ বার জপ করতে হবে। টানা বেশ কয়েকদিন করলে সুফল পাওয়া যাবে।
৫) তীব্র বশীকরণ মন্ত্র (৩ ঘন্টায়)
"ওঁ কিরী কিরী কিরী বশ্যম ফট্ স্বাহা।"
📌 বিধি: যাকে বশ করতে হবে তার ছবি হাতে নিয়ে, ডান হাতে সিঁদুর, ৪/৫ কর্পূরের টুকরো, ৪/৫ এলাচ, ৪/৫ লবঙ্গ নিয়ে, মন্ত্র এক এক বার জপ করে হাতের সিঁদুর ফটোর মধ্যে ফেলতে হবে এবং ফুঁক দিতে হবে। এরকম ১১বার করলে ৩ঘন্টার মধ্যে বশীভূত হবে।
৬) ফটো দেখে বশীকরণ
ওঁ হ্রাং হুং অমুকী স্বাহা সম্মোনায় ক্রং ফট স্বাহা।
৭) কামেশ্বরী বশীকরণ
ওঁ কামেশ্বরী বশ্যং (অমুকং) কুরু কুরু স্বাহা।
📌 বিধি: রাত্রি ১২:৩০ মিনিটে ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুল নাভীতে রেখে ২১/৫১/১০৮ বার জপ করতে হবে।
৮) শনিবারের বশীকরণ
ওঁ নমো সর্বমোহিনে স্বাহা অমুকস্য (কাঙ্খিত ব্যক্তির নাম) বশ্যম কুরু।
📌 বিধি: শনিবার রাত ১২টার পর, নিজের ডান হাতের অনামিকা নিজের নাভিতে রেখে ২১ বার জপ করতে হবে।
৯) কামাখ্যা বশীকরণ
"ওঁ অস্য কামাখ্যা মন্ত্র শ্রী অক্ষয় স্বাহা।"
📌 বিধি: রাতে শোবার সময় একটা সাদা কাগজে সবুজ রঙের কালি দিয়ে নিজের নাম + কাঙ্খিত ব্যক্তির নাম লিখে ভাঁজ করে হাতে নিয়ে ১১বার উচ্চারণ করে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরের দিন কাগজটা জ্বালিয়ে দিলে সে ব্যক্তি যোগাযোগ করতে ছটফট করবে।
১০) চকোলেট দিয়ে বশীকরণ
ইতি মিষ্টানম্ বশীকরণ উর্জা সমরপয়ামী নমঃ অমুক (নাম গোত্র) মম পরিস্থতে ফট্ নমঃ ফট্।
📌 বিধি: শুক্রবার চকোলেট এনে তাতে মন্ত্র জপ করে কাঙ্খিত ব্যক্তিকে দিলে সে বশীভূত হবে।
১১) ঘোর রূপিণী বশীকরণ
ওঁ নমো কট বিকট ঘোর রূপিণী (কাঙ্খিত ব্যক্তির নাম) সায় তীব্র বশীকরণায় স্বাহা।
অধ্যায় ২: কামদেব মন্ত্র
কামদেব হলেন প্রেম ও আকর্ষণের দেবতা। তাঁর মন্ত্র জপে প্রেম, আকর্ষণ ও বশীকরণে সিদ্ধি লাভ হয়।
কামদেব বশীকরণ মন্ত্র - ১
ওঁ নমো ভগবতী কামদেবায়
যস্য যস্য দৃশ্য ভবামি,
যশ্চ যশ্চ মম সুখম
দর্শনম্ তত মোহয়তু স্বাহা।।
কামদেব বশীকরণ মন্ত্র - ২
ওঁম কাম দেবায় নেত্র দর্শনায়
উত্তাং কুরু কুরু স্বাহা।
কামদেব গায়ত্রী মন্ত্র
ওঁ কামদেবায় বিদ্মহে পুষ্প বাণায় ধীমহী তন্নো অনঙ্গ প্রচোদয়াৎ।
অথবা
ওঁ কামদেবায় বিদ্মহে রতি প্রিয়ায়ৈ ধীমহী তন্নো অনঙ্গ প্রচোদয়াৎ।
📌 বিধি: প্রতিদিন ১০৮ বার জপ করলে প্রেম ও আকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
সর্বজন বশীকরণ কামদেব মন্ত্র
ওঁ নমঃ কামায় সর্ব্বজনপ্রিয়ায় সর্ব্বজনসন্মোহনায় জ্বল জ্বল প্রজ্বালয় প্রজ্বালয় সর্ব্বজনস্য হৃদয়ং মম বশং কুরু কুরু স্বাহা।
📌 বিধি: এই মন্ত্র জপে সকলের হৃদয় জয় করা যায়। ১০০৮ বার জপে সিদ্ধ করতে হবে।
অধ্যায় ৩: মোহিনী মন্ত্র
মোহিনী শক্তি আকর্ষণ ও সম্মোহনের দেবী। এই মন্ত্রগুলি জপে মানুষকে মোহিত ও আকৃষ্ট করা যায়।
মোহিনী বশীকরণ মন্ত্র
ওঁ নমঃ ভগবতে মোহিনী ক্লীম ক্লীম বসম্ স্বাহা।
মোহিনী আকর্ষণ মন্ত্র
ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লীং মোহিনী বশীকরণ কুরু কুরু স্বাহা।
📌 বিধি: প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১০৮ বার জপ করলে আকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
ইয়া মুকিত মন্ত্র
ইয়া মুকিত্ (Yaa Muqeet)
📌 বিধি: শনি বা মঙ্গলবার রাতে খাটে বসে ২ মালা (১০৮x২) জপ করতে হবে। জপ করার সময় কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে মনে মনে স্মরণ করতে হবে। জপ শেষ করে নিজের বুকে ফুঁ দিতে হবে। একবার মাত্র এই কাজটা করতে হবে। ২১ দিনের মধ্যে তার মনে আপনার প্রতি প্রেম জেগে উঠবে।
সাবর মোহিনী মন্ত্র
আম্বাসা জুফলি হাফস,
খুতারী উমান আদামী চুঠা
নিসমি আ- চিমঠা চিমঠা সুয়া বূদা !!
ভাস্কর মোহিনী মন্ত্র
ওঁ নমঃ ভাস্করায় ত্রিলোকাত্মনে অমুকং (ব্যক্তির নাম)
মহাপতি মে বশ্য কুরু কুরু স্বাহা।
📌 বিধি: রাতে ৫বার জপ করতে হবে। সামনা সামনি দেখা হলেও ৫বার জপ করতে হবে।
অধ্যায় ৪: শত্রু নিয়ন্ত্রণ মন্ত্র
শত্রুর উপদ্রব ও ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে এবং শত্রুকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এই মন্ত্রগুলি প্রয়োগ করা হয়।
শত্রু বুদ্ধি স্তম্ভন মন্ত্র
ওঁ নমো ভগবতী অমুকস্য বুদ্ধি স্তম্ভয় শত্রু ফট স্বাহা।
📌 বিধি: 'অমুক' স্থানে শত্রুর নাম উচ্চারণ করতে হবে। মধ্যরাতে ১০৮ বার জপ করতে হবে।
চামুণ্ডা শত্রু নিয়ন্ত্রণ মন্ত্র
ওমঃ হ্রীং রক্ত চামুণ্ডে, তরু তরু (অমুকং)।
📌 বিধি: (অমুকং-র স্থলে কাঙ্খিত ব্যক্তির নাম) গভীর রাতে অন্তত ১০৮ বার করণীয়।
অগ্নি বশীকরণ সাবর মন্ত্র
আছমানি, সোলেমানি চণ্ডাল,
কুণ্ডাল, আফগান, কাফিয়ান,
অমুক'কে মোর বশে আন,
জুল জাল মহাইন্দ্র জাল,
আল্লাহর হুকুম অমুক আমার
আয়ত্ত'হ না হলে আজরাইলের
ঘরে যা, দোহায় খাকী মা কালী।।
📌 বিধি: তিনবার (৩) এই সাবর মন্ত্র পাঠে বশীকরণ সিদ্ধ হয়।
দুষ্ট নাশিনী মন্ত্র
ওঁ দুষ্টম ভৈরবায় দুষ্টনাশিনী ক্রীং ক্রীং ফট্ স্বাহা।
📌 বিধি: কাঁচের গ্লাসে অর্ধেক জল নিয়ে উক্ত মন্ত্র ৩ বার পাঠ করে জলে ফুঁ দিন। তার পর ঐ জল ফ্ল্যাশ করে দিন।
বগলামুখী শত্রু স্তম্ভন মন্ত্র
ওঁ হ্রীং বগলামুখীম্ সর্বদুষ্টানাম বাচম্ মুখম পদম স্তম্ভয় জিহ্বাম কিলয় কিলয় বুদ্ধিবিনাশায় হ্রীং ওঁ স্বাহা।
📌 বিধি: এই মন্ত্রে মা বগলামুখী শত্রুর বাক্, মুখ, পদ ও বুদ্ধি স্তম্ভিত করেন।
নৃসিংহ রক্ষা মন্ত্র
ওঁ জয় জয় শ্রী নৃসিংহ।
📌 বিধি: যেকোন রোগ, জ্বালা, শত্রু উপদ্রব, ভয়, বাধা, ঋণ, তান্ত্রিক টোনা টোটকা ইত্যাদি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এই মন্ত্র জপ করুন।
অধ্যায় ৫: স্ত্রী বশীকরণ মন্ত্র
⚠️ সতর্কতা:
এই মন্ত্রগুলি শুধুমাত্র বৈধ ও শুভ উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা উচিত। অন্যের ক্ষতি বা অনৈতিক কাজে প্রয়োগ করলে সাধকের নিজের ক্ষতি হয়।
ক্ষিপ্রকামিনী মন্ত্র
"ওঁ নমঃ ক্ষিপ্ৰকামিনী অমুকীং যে বশমানয় স্বাহা।"
📌 বিধি: চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকালে ১০,০০০ বার জপ করলে মন্ত্র সিদ্ধ হবে। 'অমুকীং' স্থলে অভিলষিত নারীর নাম উল্লেখ করতে হবে। মন্ত্রসিদ্ধির পর প্রাতঃকালে একটি ঘটিতে জল রেখে, ১০৮ বার অভিমন্ত্রিত করে সেই জল নিজেই পান করবে। ৭ দিন প্রত্যহ এই ক্রিয়া করলে সিদ্ধি হয়।
মহামাতঙ্গী মন্ত্র
"ওঁ হ্রীং মহামাতঙ্গীশ্বরী চান্ডালিনী অমুকীং পচ পচ দহ দহ মথ মথ স্বাহা"
📌 বিধি: চন্দ্র বা সূর্য গ্রহনের দিন ১০,০০০ বার জপ করে সিদ্ধ হতে হবে। তারপর যে কোনও রবিবার পুনরায় ধূপ-দীপ জ্বেলে শুদ্ধবস্ত্রে ১০০৮ বার জপ করে, দুগ্ধ ও চিনির সাহায্যে ১০৮ বার হোম করলে সিদ্ধি হয়।
চামুণ্ডা মন্ত্র
"হ্রাং অঘোরে হ্রীং ঘোর ঘোরতরে সর্বং সর্বে নমস্তে রুপে হৃঃ ঐং হ্রীং ক্লীং চামুন্ডেয়ৈ বিচ্চে বিচ্চে।"
📌 বিধি: চন্দ্র বা সূর্যগ্রহনকালে ১০,০০০ বার জপ করলে মন্ত্র সিদ্ধ হবে। তারপর সিদ্ধ মন্ত্রদ্বারা খাদ্যদ্রব্য ১০৮ বার অভিমন্ত্রিত করে খাওয়ালে সিদ্ধি হয়।
কুম্ভনী মন্ত্র
"ওঁ কুম্ভনী স্বাহা।"
📌 বিধি: চন্দ্ৰ বা সূর্যগ্রহণ কালে ১০,০০০ বার করে সিদ্ধ হতে হবে। তারপর কোনও সুগন্ধযুক্ত ফুলে (চাঁপা, গোলাপ প্রভৃতি) ১০৮ বার অভিমন্ত্রিত করে সেই ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ালে সিদ্ধি হয়।
ব্যবহৃত বস্ত্রে বশীকরণ
১) ওম নমো ভূতনাথ সমসত ভুবন, ভূটানি সাধয় হুং।
২) " ইয়া লুতফিয়াল খাফি" ৩৩০বার জপ।
📌 বিধি: কাপড়ে ৫ফোঁটা করে জ্বালিয়ে, ঘরে ছাই এনে রাতে ডান পায়ে চেপে উক্ত মন্ত্র জপ। তারপর ছাই জলে ভাসিয়ে দিন।
মোমের মূর্তিতে বশীকরণ
ওঁ নমো ভগবতি সূচিচাণ্ডালিনি নমঃ স্বাহা।
📌 বিধি: অভিলাষিত ব্যক্তির একটি মূর্তি তৈরি করে তাতে উক্ত মন্ত্রে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে তা অগ্নিতে তাপিত করতে হবে। মূর্তি গলিবে ও ব্যক্তি বশীভূত হবে।
অধ্যায় ৬: ধনলাভ ও লক্ষ্মী মন্ত্র
দেবী লক্ষ্মী হলেন ধন, সম্পদ, সৌন্দর্য ও সৌভাগ্যের দেবী। তাঁর মন্ত্র জপে আর্থিক সমৃদ্ধি ও সুখ লাভ হয়।
লক্ষ্মী মন্ত্র
ওঁ শ্রীং শ্রীং শ্রীং কমলে কমলায়ে প্রসীদ প্রসীদ শ্রীং ওঁ মহালক্ষ্মৈ নমঃ।
মহালক্ষ্মী মন্ত্র
ওঁ শ্রীং হ্রীং মহালক্ষ্মৈ নমঃ।
লক্ষ্মী-গণেশ মন্ত্র
নমঃ হ্রীং শ্রীং ক্লীং, শ্রীং ক্লীং শ্রীং লক্ষ্মী-গণেশায় মম গৃহে ধন দেহি চিন্তা দূর করতি স্বাহা।।
কুবের মন্ত্র
ওঁ শ্রীং ওঁ, হ্রীং শ্রীং হ্রীং, ক্রীং শ্রীং ক্রীং বিত্তেশ্বরায় নমঃ।
ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ক্রৌং বিত্তেশ্বরায় নমঃ।
📌 বিধি: কুবের মুদ্রায় দুই হাত পেটের কাছে নিয়ে জপ করতে হবে।
অষ্টলক্ষ্মী কুবের মন্ত্র
ওঁ হ্রীং শ্রীং, ক্রীং শ্রীং কুবেরায় অষ্টলক্ষ্মী মম গৃহে ধনং পুরয় পুরয় নমঃ।
ধনলাভের বৈদিক মন্ত্র
ধানম-অগ্নির-ধনম বায়ুর ধানম সূর্য্য ধনম বাসু।
ধনম-ইন্দ্রো ব্রহ্স্পতির বরুণম ধনমশনুতে।
📌 বিধি: প্রতিদিন প্রাতঃকালে ১০৮ বার জপ করলে ধনলাভ হয়।
মহালক্ষ্মীর ষোড়শ নাম যুক্ত মহামন্ত্র
"শ্রীগণেশায় নমঃ।
ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং মহালক্ষ্মী শ্রীপদ্মাবত্যৈ নমঃ।
মহালক্ষ্মী মহাকালী মহাদেবী মহেশ্বরী।
মহামূর্ত্তি মহামায়া মহাধর্ম্মেশ্বরী অর্হ।।
মুক্তামালা - ধরা মায়া মহামেধা মহোদরী।
মহাজন্তী জগৎমাতা মহাসদ্যোতিনি অহ।।"
📌 বিধি: যে ব্যক্তি নিত্য পাঠ করে, তার উপর লক্ষ্মীদেবীর কৃপা হয়। সংসারে দুঃখ দারিদ্র থাকে না। জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে।
সৌভাগ্য লাভের মন্ত্র
অখণ্ড বিষ্ণু কার্যম
ব্যাসন দেন চরাচরম
তৎ পদম দর্শিতং যেন
তস্মৈ শ্রী লষ্মীয়ায় নমঃ।
নারায়ণ নারায়ণ নারায়ণ
চিত্রা পূর্ণিমা মন্ত্র
"ওঁ চিত্রায় নমঃ।"
📌 বিধি: যেকোন পূর্ণিমার দিন এই মন্ত্র কেবলমাত্র ১২ বার জপ করলে লটারী প্রাপ্তি অথবা অপ্রত্যাশিত ভাবে কিছু না কিছু প্রাপ্তি হবেই।
অধ্যায় ৭: ঋণমুক্তি মন্ত্র
ঋণ বা দেনা থেকে মুক্তি পেতে এবং পাওনা আদায়ের জন্য এই মন্ত্রগুলি অত্যন্ত কার্যকর।
কাল ভৈরব ঋণমুক্তি মন্ত্র
श्री बटुकभैरव स्तोत्रम्
ॐ ह्रीं बुम् बटुकाय आपदुद्धारणाय
कुरु कुरु बटुकाय ह्रीं ॐ नमः शिवाय।
रक्षस्व मां शत्रुभयात्, धनसंपत्तिं च देहि मे।
आपदः हर सर्वाः, बटुकभैरवाय नमो नमः।
ওঁ হ্রীং বুম্ বটুকায় আপদউদ্ধারণায়
কুরু কুরু বটুকায় হ্রীং ওঁ নমঃ শিবায়।
রক্ষস্ব মাম্ শত্রুভয়াত্, ধনসম্পত্তি চ দেহি মে।
আপদ হর সর্বাঃ বটুক ভৈরবায় নমো নমঃ।
📌 বিধি: প্রতিদিন ১০৮ বার জপ করলে ঋণমুক্তি ও পাওনা আদায় হয়।
চণ্ড ভৈরব ঋণমুক্তি মন্ত্র
ওঁ সর্বশত্রু নাশায় বিঘ্নহে মহাবীরায় ধীমহি
তন্ন চন্ড ভৈরব প্রচোদয়াৎ।
📌 বিধি: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একবার এই মন্ত্র পাঠ করলে সকল প্রকার ধার বা ঋণ থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব হয়। রাত ১২টায় করতে পারলে বেশি ভালো।
অধ্যায় ৮: নবগ্রহ মন্ত্র
নবগ্রহের অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে এবং গ্রহশান্তির জন্য এই মন্ত্রগুলি জপ করা হয়।
নবগ্রহ সংক্ষিপ্ত মন্ত্র
ব্রহ্ম মুরারী ত্রিপুরান্তকারী ভানু শশী ভূমি-সূত বুধশ্চ গুরুশ্চ, শুক্র শনি রাহু কেতবঃ সর্বেগ্রহা শান্তি কুরু ভবন্তু।
সূর্য্য মন্ত্র
'ওম হাং হীং হৌং সঃ সূর্যায় নমঃ'
চন্দ্র মন্ত্র
'ওম শ্রাং শ্রীং শ্রৌং সঃ চন্দ্রমসে নমঃ'
মঙ্গল মন্ত্র
'ওম ক্রাং ক্রীং ক্রৌং সঃ ভৌমায় নমঃ'
বুধ মন্ত্র
'ওম ব্রাং ব্রীং ব্রৌং সঃ বুধায় নমঃ'
বৃহস্পতি মন্ত্র
'ওম গ্রাং গ্রীং গ্রৌং সঃ গুরুবে নমঃ'
শুক্র মন্ত্র
'ওম দ্রাং দ্রীং দ্রৌং সঃ শুক্রায় নমঃ'
শনি মন্ত্র
'ওম প্রাং প্রীং প্রৌং সঃ শনৈশ্চরায় নমঃ'
রাহু মন্ত্র
'ওম ভ্রাং ভ্রীং ভ্রৌং সঃ রাহবে নমঃ'
📌 একাক্ষরী বীজ মন্ত্র: ওঁ রাং রাহবে নমঃ।।
কেতু মন্ত্র
'ওম স্রাং স্রীং স্রৌং সঃ কেতবে নমঃ'
📌 একাক্ষরী বীজ মন্ত্র: ওঁ কেতবে নমঃ।।
অধ্যায় ৯: শিব মন্ত্র
মহাদেব শিব হলেন ত্রিদেবের অন্যতম ও সর্বশক্তিমান দেবতা। তাঁর মন্ত্র জপে সকল বিপদ দূর হয় ও মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
"ওঁ ত্রয়ম্বকম্ যজামহে সুগন্ধিম্ পুষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।"
বীজ মন্ত্র সহ মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
ঔঁ হূম জূম স্বহা
ঔঁ ত্রৈয়ম্বকম্ যজামহে
সূগন্ধিম্ পূষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারূকমিব বন্ধনাম্
মৃত্যুরমোক্ষিয় মামৃতাত॥
ঔঁ স্বহা জূম হূম ঔঁ
শিব গায়ত্রী মন্ত্র
Om Tatpurushaya Vidmahe Mahadevaya Dhimahi Tanno Rudrah Prachodayat
শিবলিঙ্গে জল অর্পণ মন্ত্র
নমো সম্ভোবায় চঃ, ময়োভবায় চঃ, নমো শঙ্করায় চঃ, নমোশিবায় চঃ, শিবতারায় চঃ।।
শিব প্রণাম মন্ত্র
দেবাদিদেব মহিভূষণ মিন্দুকাশং পঞ্চাননং
পশুপতিম্ বরদং প্রসন্নং
গঙ্গাধরম প্রণত পলাকমা।
বন্দে সদাশিব বিষ্ণুপ্রিয় চন্দ্রমৌলিম্।
কালসর্প দোষ নিবারণে শিব মন্ত্র
ত্রিদলং ত্রিগুণাকারং ত্রিনেত্রং চ ত্রিয়ায়ুদ্ধম্
ত্রিজন্মপাপ সংহারং এক বিল্বং শিবার্পণাম।।
কর্পূর শিব মন্ত্র
কর্পূরগৌরং করুণাবতারম্
সংসারসারম্ ভূজগেন্দ্রহারম্।
সদাবসন্তম্ হৃদয়ারবিন্দে
ভবং ভবানী সহিতম্ নমামি।।
বাণেশ্বর শিবলিঙ্গ
◆ ধ্যান মন্ত্র:
ওঁ প্রমত্তং শক্তি সংযুক্তং বাণাখ্যাঞ্চ মহাপ্রভুং, কামবাণান্বিতং দেবং সংসার দহনক্ষমম্। শৃঙ্গারাদি – রসোল্লাসং বাণাখ্যাম্ পরমেশ্বরম্।।
◆ প্রণাম মন্ত্র:
ওঁ বাণেশ্বরায় নরকার্ণবতারাণায় জ্ঞানপ্রদায় করুণামৃত সাগরায়। কপূর-কুন্দ-ধবলেন্দু-জটাধরায় দারিদ্র্য দুঃখ দহনায় নমঃ শিবায়।।
◆ জপ মন্ত্র:
ওঁ হৌং বাণেশ্বরায় শিবায় নমঃ।।
অধ্যায় ১০: দুর্গা মন্ত্র
মা দুর্গা হলেন শক্তির দেবী। তাঁর মন্ত্র জপে সকল বিপদ দূর হয়, শত্রু পরাজিত হয় ও মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
দশভুজা দুর্গার ধ্যান
ওঁ জটাজুটসমাযুক্তা-মৰ্দ্ধেন্দুকৃতশেখরাম্। লোচনত্রয়সংযুক্তাং পূর্ণেন্দুসদৃশাননাম্॥
তপ্তকাঞ্চনবর্ণাভাং সুপ্রতিষ্ঠাং সুলোচনাম্। নবযৌবন-সম্পন্নাং সর্ব্বাভরণ-ভূষিতাম্৷৷
সুচারুদশনাং দেবীং পীনোন্নত-পয়োধরাম্। ত্রিভঙ্গস্থানসংস্থানাং মহিষাসুরমদ্দিনীম্।।
কালিকাপুরাণোক্ত দুর্গা মন্ত্র
ওঁ দুর্গে দুর্গে রক্ষণি স্বাহা,
ওঁং হ্রীং দুং দুর্গায়ৈ নমঃ।
বৃহন্নন্দিকেশ্বর পুরাণোক্ত মন্ত্র
ওঁ দক্ষযজ্ঞবিনাশিন্যৈ মহাঘোরায়ৈ যোগিনী কোটী পরিবৃতায়ৈ।
দুর্গা পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র
নমঃ আয়ুদেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে
পুত্রান্ দেহি ধনং দেহি সৰ্ববান্ কামাশ্চ দেহি মে
হর পাপং হর ক্লেশং হর শোকং হরাসুখম্
হর রোগং হর ক্ষোভং হর মারীং হরপ্রিয়ে
সংগ্রামে বিজয়ং দেহি ধনং দেহি সদা গৃহে
ধৰ্ম্মার্থকামসম্পত্তিং দেহি দেবী নমোস্তু তে
এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ
নমঃ দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী
কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ
দুর্গা স্তুতি
কালি কালি মহাকালি কালিকে কালরাত্রিকে
ধম্মকামপ্রদে দেবি নারায়ণি নমোস্তু তে
লক্ষ্মি লজ্জে মহাবিদ্যে শ্রদ্ধে পুষ্টি স্বধে ধ্রুবে
মহারাত্রি মহামায়ে নারায়ণি নমোস্তু তে
বিশ্বস্যোপরতৌ শক্তে নারায়ণি নমোস্তু তে
কলাকাষ্ঠাদিরূপেণ পরিণামপ্রদায়িনি
অধ্যায় ১১: কালী ও তারা মন্ত্র
মা কালী ও মা তারা দশমহাবিদ্যার অন্যতম। তাঁদের মন্ত্র জপে শত্রুনাশ, রোগমুক্তি ও সর্বকার্য সিদ্ধি হয়।
দক্ষিণাকালী মন্ত্র
ওঁ ক্রীং ক্রীং ক্রীং দক্ষিণাকালিকা ক্রীং ক্রীং ক্রীং নমঃ।
মা তারার ধ্যান
ওঁ প্রত্যালীঢ়পদাং ঘোরাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্।
খর্ব্বাং লম্বোদরীং ভীমাং ব্যাঘ্রচর্ম্মাবৃতাং কটৌ।।
নবযৌবনসম্পন্নাং পঞ্চমুদ্রাবিভূষিতাম্।
চতুর্ভূজাং লোলজিহ্বাং মহাভীমাং বরপ্রদাম্।
খড়্গকর্ত্তৃসমাযুক্তসব্যেতরভূজদ্বয়াম্।
কপালোৎপল-সংযুক্তসব্যপাণিযুগান্বিতাম্।।
পিঙ্গাগ্রৌকজটাং ধ্যায়েন্মৌলিবক্ষভ্যভূষিতাম্।
বালার্কমণ্ডলাকারলোচনত্রয়ভূষিতাম্।।
জলচ্চিতামধ্যগতাং ঘোরদংষ্ট্রাং করালিনীম্।
স্বাবেশস্মেরবদনাং স্ত্র্যলঙ্কারবিভূষিতাম্।।
বিশ্বব্যাপক তোয়াস্ত শ্বেতপদ্মোপরিস্থিতাম্।
অক্ষ্যেভ্যো দেবীমূর্দ্ধন্যস্ত্রীমূর্ত্তিনাগরূপধৃক্।।
ছিন্নমস্তা মন্ত্র
শ্রীঁ ক্লীঁ হ্রীঁ ঐঁ বজ্রবৈরোচনীয়ে হুঁ হুঁ ফট্ স্বাহা।
অধ্যায় ১২: গণেশ মন্ত্র
শ্রী গণেশ হলেন সিদ্ধি ও বিঘ্ন বিনাশের দেবতা। সকল কার্যের আগে তাঁর পূজা করা হয়।
গণেশ বীজ মন্ত্র
ওঁ গাং গণেশায় নমঃ
শক্তিবিনায়ক গণেশ মন্ত্র
ওঁ হ্রীং গ্রীং হ্রীং।
(OM HREENG GREENG HREENG)
গণেশের দ্বাদশ নামাক্ষর
সুমুখ, একদন্ত, কপিল, গজকর্ণ, লম্বোদর, বিকট, বিঘ্ননাশক, বিনায়ক, ধূম্রকেতু, গণাধ্যক্ষ, ভালচন্দ্র তথা গজানন।
📌 বিধি: এই দ্বাদশ নাম জপে সকল বাধা-বিপত্তি দূর হয়।
অধ্যায় ১৩: কামাখ্যা মন্ত্র
মা কামাখ্যা হলেন কামনা পূরণের দেবী। তাঁর মন্ত্র জপে সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
কামাখ্যা ধ্যান
রবিশশিযুতকণা কুঙ্কুমাপীতবর্ণা
মণিকনকবিচিত্রা লোলজিহ্বা ত্রিনেত্রা।
অভয়বরদহস্তা সাক্ষসূত্রপ্রহস্তা,
প্রণতসুরনরেশা সিদ্ধকামেশ্বরী সা।।
অরুণ-কমলসংস্থা রক্তপদ্মাসনস্থা,
নবতরুণশরীরা মুক্তকেশী সুহারা।
শবহৃদি পৃথুতুঙ্গা স্বাঙ্ঘি যুগ্মা মনোজ্ঞা,
শিশুরবিসমবস্ত্রা সর্ব্বকামেশ্বরী সা।।
কামেশ্বরী দেবী 'মা কামাখ্যা'র প্রণাম মন্ত্র
মা কামাখ্যা নমস্তুভ্যং শৈলসুতা কামেশ্বরী।
হরপ্রিয়া নমস্তুভ্যং নমস্তুভ্যং দয়া নিধে।।
ভুবনেশ্বরী ভবতারিণী মংগল মোক্ষ প্রদায়িনী।
কামনা সিদ্ধ কামেশ্বরী শক্তিশৈল সমন্বিতা।।
অধিষ্ঠাত্রী অসমদেশে আবাহ্যামি সুসর্বদা।
সিদ্ধক্ষেত্র নীলাংচলে শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিতম।।
নমোহস্তু কামাখ্যায় দেবৈ চ তেজোময়ং দিব্যম।
প্রণমামি সদা ভক্তয়া মাং কামাখ্যা পরম শুভম।।
নমো ভগবতী ভগেশ্বরী যোনি মুদ্রা মহোদরী।
শরণ্যে শক্তিরুপায় দেবী কল্যাণী নমোহস্তুতে।।
ত্বং আদ্যাদেবী কামাখ্যারুপেন জগত্মাতৃকা
তৎ চরনারবিন্দ সর্বভূতানাং স্বর্মপয়ামি॥
কামাখ্যে বরদে দেবী নীলপর্ব্বতবাসিনী
ত্বং দেবী জগতাং মাতর্যোনিমুদ্রেনমোহস্তুতে।।
অধ্যায় ১৪: দশমহাবিদ্যা মন্ত্র
দশমহাবিদ্যা হলেন দেবী দুর্গার দশটি তান্ত্রিক রূপ। এই দশ দেবীর উপাসনায় সকল সিদ্ধি লাভ হয়।
দশ মহাবিদ্যার সংক্ষিপ্ত মন্ত্র
"কালী তারা মহাবিদ্যা
ষোড়শী ভুবনেশ্বরী।
ভৈরবী ছিন্নমস্তা চ বিদ্যা
ধূমাবতী তথা।।
বগলা সিদ্ধিবিদ্যা চ
মাতঙ্গী কমলাত্মিকা।
এতা দশ মহাবিদ্যাঃ
সিদ্ধবিদ্যা প্রকীর্ত্তিতাঃ"।।
কুণ্ডলিনীর ধ্যান
ওঁ ধ্যায়েৎ কুণ্ডলিনীং সূক্ষ্মাং মূলাধার নিবাসিনীং।
তামিষ্ট দেবতারূপাং সার্দ্ধ ত্রিবলয়ান্বিতাং।
প্রসুপ্তা ভূজগাকারাং স্বয়ম্ভু লিঙ্গমাশ্রিতাং।
বিদ্যুৎকোটিপ্রভাং দেবীং বিচিত্র বসনান্বিতাং।
শৃঙ্গরাদি রসোল্লাসাং সর্ব্বদা কারণ প্রিয়াং।।
অধ্যায় ১৫: রক্ষা কবচ মন্ত্র
এই মন্ত্রগুলি দেহ রক্ষা, বিপদ থেকে মুক্তি ও সুরক্ষার জন্য প্রয়োগ করা হয়।
দেহ রক্ষা মন্ত্র - ১
ওঁ নমঃ শিবায় রুদ্রায় মাতা চণ্ডী মম রক্ষ কুরু স্বাহা।
📌 বিধি: ১০বার জপ করতে হবে।
দেহ রক্ষা মন্ত্র - ২
ওঁ পরমাত্মনে পরব্রহ্ম নমঃ।
মম শরীরং পাহি পাহি কুরু কুরু স্বাহা।।
📌 বিধি: ৩বার জপ করে শরীরে ৩বার ফুঁ দিতে হবে।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মন্ত্র
শুভম করতি কল্যানম্ আরোগ্যং ধনসম্পদম্
শত্রু বুদ্ধি বিনাশায় দ্বীপম্ জ্যোতি নমহস্তুতে।।
তুলসী পাতা তোলার মন্ত্র
মহাপ্রসাদ জননী, সর্ব সৌভাগ্যবর্ধিনী,
আধি ব্যাধি হরা নিত্যং, তুলসী ত্বং নমোস্তুতে।
অথবা
ডালে কৃষ্ণ পাতায় হরি,
সর কৃষ্ণ, তুলসী তুলি।
অধ্যায় ১৬: হনুমান মন্ত্র
শ্রী হনুমান হলেন ভয় ভঞ্জনকারী ও সংকটমোচন দেবতা। তাঁর মন্ত্র জপে সকল ভয় ও বিপদ দূর হয়।
হনুমান ভয়ভঞ্জন মন্ত্র
ওঁ নমো হনুমতে ভয়ভঞ্জনায় সুখম কুরু ফট স্বাহা।।
📌 বিধি: ১০৮ বার জপ করুন, এর মধ্যেই সুখবর পাবেন।
অধ্যায় ১৭: বিষ্ণু মন্ত্র
শ্রী বিষ্ণু হলেন পালনকর্তা। তাঁর মন্ত্র জপে সকল বিঘ্ন দূর হয় ও শুভ ফললাভ হয়।
বিষ্ণু ধ্যান মন্ত্র
শুক্লাংবরধরং বিষ্ণু শশি বর্ণ চতুর্ভুজাম্।
প্রসন্ন বদনং ধ্যায়েত সর্ব বিঘ্নোপশান্তয়ে।।
📌 বিধি: রোজ সকালে উঠে শ্রীবিষ্ণু মহাযন্ত্র দর্শনে কোন অনিষ্ট হয় না। অশুভ সময় শুভ সময়ে পরিবর্তিত হয়। ভূত, প্রেত, পিশাচ বা কোন অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারে না।
অধ্যায় ১৮: সূর্য মন্ত্র ও অর্ঘ্য
সূর্যদেব হলেন প্রত্যক্ষ দেবতা। তাঁর উপাসনায় আরোগ্য, যশ ও সম্মান লাভ হয়।
সূর্যার্ঘ্য মন্ত্র
ওঁ কাশ্যপ গোত্রায় প্রকাশ শক্তি (বা ছায়াসঙ্গ) সহিতায় শ্রী সূর্য্যায় নমঃ বিবস্বতে ব্ৰহ্মণ ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে জগৎ সবিত্রে সূচয়ে কমদায়িনে, ইদং অর্ঘ্যং ভগবতে শ্রীসূৰ্য্যায় নমঃ।
এহি সূৰ্যঃ সহস্রাংশে তেজরাশে জগৎপতে।
অনুকম্পয় মাং ভক্তং গৃহানার্ঘ্যং দিবাকরম্।।
এষোর্ঘ্যঃ ভগবতে শ্রীসূৰ্য্যায় নমঃ।।
📌 বিধি: একটা কুশিতে জল, লাল চন্দন, পুষ্প নিয়ে উপরোক্ত মন্ত্র পাঠ করে তিন বার সেই জল অন্য তামার পাত্রে ঢালবেন। অবশেষে সেই জল তুলসীগাছে ঢেলে দেবেন।
সূর্য প্রণাম মন্ত্র
ওঁ জবাকুসুম সংঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিং।
ধান্তারিং সর্ব্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।।
শ্রী সূর্য্যায় নমঃ, শ্রী সূর্য্যায় নমঃ, শ্রী সূর্য্যায় নমঃ।।
অধ্যায় ১৯: তান্ত্রিক টোটকা নিবারণ
কেউ যদি আপনার উপর তান্ত্রিক বশীকরণ, টোনা টোটকা বা বাণমারা করে থাকে, তাহলে এই মন্ত্রগুলি প্রয়োগে মুক্তি পাওয়া যায়।
টোটকা নাশক মন্ত্র
যম্ যম্ যম্ যম্ যম্ তম্ তম্ তম্ তম্ তম্ ফট্ ফট্ ফট্ কুরু কুরু স্বাহা।
📌 বিধি: ইষ্ট দেবতাকে স্মরণ করে উক্ত মন্ত্র পাঠ করে ৫টি ধূপকাঠি জ্বালিয়ে দিন। টোনা টোটকা, বাণমারা, বশীকরণের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি মিলবে।
নৃসিংহ রক্ষা মন্ত্র
ওঁ জয় জয় শ্রী নৃসিংহ।
📌 বিধি: যেকোন রোগ, জ্বালা, শত্রু উপদ্রব, ভয়, বাধা, ঋণ, তান্ত্রিক টোনা টোটকা ইত্যাদি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এই মন্ত্র জপ করুন।
অধ্যায় ২০: বিবিধ সিদ্ধ মন্ত্র
সর্ব কার্যে সফলতা লাভের মন্ত্র
ওঁ বাঙক্ষরায়ৈ নমঃ।
📌 বিধি: কুশমূলে উপবেশন করিয়া একাগ্রমনে এই মন্ত্র দশ হাজার বার জপ করিলে যাবতীয় কার্য সফল হইয়া থাকে।
বাক্সিদ্ধি লাভের মন্ত্র
ওঁ হ্রীং ভারত্যৈ ঈং নমঃ।
📌 বিধি: অপামার্গ তরুমূলে আসীন হইয়া এই মন্ত্র দশ হাজার বার জপ করিলে যক্ষিণী প্রসন্ন হইয়া সাধককে বাক্সিদ্ধি প্রদান করেন।
সাবর্ণ গোত্র পৈতা মন্ত্র
ঔর্ব্ব, চ্যবন, ভার্গব, জামদগ্ন্য, আপ্লুবৎ।
📞 যোগাযোগ
DIGDARSHAN PUBLICATION
KOLKATA - 700008
📍 ঠিকানা:
47F, Raja Rammohan Roy Road, Kolkata-700008
📱 Call + WhatsApp:
8697190840 / 9830637766 / 9474977666
📧 Email:
support@digdarshanastro.com
🌐 Website:
digdarshanastro.com
লেখক
জ্যোতিষ দেবজ্ঞ ও মাতৃসাধক অমিতশ্রী
© 2024 DIGDARSHAN PUBLICATION. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
এই বইয়ের কোনো অংশ প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কপি, পুনঃমুদ্রণ বা বিতরণ করা যাবে না।
॥ ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি ॥